ইউটিউব থেকে আয় কিভাবে করবেন জেনে নিন-

ইউটিউব থেকে যে আয় করা যায় , এ কথাটি অনেকের কাছে অজানা। অনেকেই জানেন আয় করা যায় , কিন্তু কিভাবে তা করতে হয় , সে ব্যাপারে যথেষ্ট ধারণা নেই। আবার কেউ কেউ ইউটিউবে আয় করার ব্যাপারে জানেন এবং কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে পারছেন না।

          ইউটিউবের নাম শুনেননি এমন লোক পাওয়া দুষ্কর। অনলাইনে ভিডিও দেখার কথা এলে প্রথমেই মাথায় আসে ইউটিউবের কথা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং সাইট হিসেবে ইউটিউব এখন শির্ষে অবস্থান করছে। প্রতিদিন লাখ লাখ ভিজিটর ইউটিউবে প্রবেশ করে থাকে এবং বিভিন্ন ধরনের ভিডিও দেখে থাকে।

ইউটিউব কী ?

ইউটিউব হচ্ছে অনলাইনে ভিডিও শেয়ার, ভিডিও স্ট্রিমিং ও লাইভ ভিডিও দেখার ওয়েবসাইট। এখানে যে কেউ ভিডিও আপলোড করতে পারবেন বিনামূল্যে এবং সবাইকে দেখানোর জন্য উন্মুক্ত করতে পারবেন। এখানে অন্যদের আপলোড করা ভিডিওগুলো বিনা বাধায় দেখা যায় এবং কোনো মূল্য দিতে হয় না। ইউটিউবে রেজিস্ট্রেশন করে নিজের ভিডিও আপলোড করা যায়। সার্চ ইন্জিনের জগতে গুগলের পরেই ইউটিউব হলো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও জনপ্রিয় সার্চ  ইন্জিন। প্রতিমাসে প্রায় ৩ বিলিয়ন সার্চ করা হয় ইউটিউব।

ইউটিউবের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:     

আমেরিকার ক্যালিফোনিয়া রাজ্যের সান ব্রুনো নামের এক শহরে তিনজন প্রতিভাবান ব্যাক্তির হাতে জন্ম লাভ করে ইউটিউব। ২০০৫ সালের ফ্রেব্রুয়ারীতে প্রতিষ্টিত হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির পেছনে ছিলেন মূলত পেপ্যালের তিন সাবেক চাকরিজীবী। তারা হলেন আমেরিকার চ্যাড হার্লে, তাইওয়ানিজ স্টিভ চ্যান আর বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত জাওয়েদ করিম।

ইউটিউব থেকে আয়ের উপায় :

          বেশিরভাগ মানুষ ইউটিউব ব্যবহার করে সম্পূর্ণ মজার খোরাক হিসেবে। কিন্তু যেসব মানুষ প্রতিনিয়ত ইউটিউব ব্যবহার করেন শুধু শখের বসে, তারা জানেনই না যে আপনার আপলোড করা এই ভিডিও গুলো অনায়াসে হতে পারে আয়ের পথ। খুব সহজ সাধারণত  কিছু নিয়ম অনুসরণ করে অনলাইনে আয়ের যে কোন ক্ষেত্র থেকে অনেক দ্রুত আয় করা যায় ইউটিউব থেকে। তাহলে যানতে হয় আয়ের সঠিক পথ : এবার দেখে নেই কী কী উপায়ে আপনি ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন।

উপায়-১:  ইউটিউব মনেটাইজেনশন :

          ইউটিউব মনোটাইজেশন থেকে আয় হচ্ছে সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় পদ্ধতি। আগেই বলা হয়েছে, ইউটিউব হচ্ছে গুগলের একটি সার্ভিস বা সেবা। আবার গুগল অ্যাডসেন্স ও গুগলের। তাই ইউটিউবের ব্যাপারে গুগলের প্রাধান্য অনেক। কোনো ব্লগের জন্য গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভ করা বেশ কঠিন। কিন্তু কয়েকটি ভালোমানের ছোট ছোট ভিডিও দিয়েই একটি অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ করা যাবে। ভবিষ্যতে হয়তো কিছুটা কড়াকড়ি হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইউটিউবে গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভ করানো সহজ। ইউটিউব থেকে যারা আয় করেন তাদের অনেকেই লক্ষ, আবার কেউ কেউ আছেন কোটি টাকাও আয় করছেন।

          ইউটিউব মনোটাইজেশনের জন্য ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে গুগল অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। এই অ্যাডসেন্সের মাধ্যমেই ভিডিওতে অ্যাড এবং টাকা পাওয়া যাবে। ইউটিউব লগইন করার পর বাম পাশের চ্যানেল অপশন থেকে Monetization অপশনে ক্লিক করে ডান পাশে Enable Monetization বাটন থেকে Monetization অ্যাকটিভ করে নিতে হবে। তারপর নিচের দিকে How will Paid নামে আরেকটি অপশন পাবেন। সেখানে assiciate an Adsence account-  ক্লিক করে আপনার জি মেইল আইডি এর মাধ্যমে লগইন করে যাবতীয় তথ্য দিলেই আপনার Adsense  Request চলে যাবে। এখন ২-৩ দিনের মধ্যে আপনার Adsence Approve এর মেইল আপনার ইনবক্সে চলে আসবে। তবে অ্যাডসেন্স  এনাবল করার আগে চ্যানেলে বেশ কিছু মানসম্পন্ন নিজস্ব ভিডিও রাখা আবশ্যক।

উপায়-২:  পোডাক্ট রিভিউ ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং:

          পোডাক্ট রিভিউ ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ইউটিউব থেকে আয়ের আরেকটি মাধ্যম। এতে বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্টের ভিডিও রিভিউ করে সেই পোডাক্টের লিংক ভিডিও ডেসক্রিপশনে দিয়ে দিতে হয়। এতে ভিডিও রিভিউ দেখার পর যদি কেউ সেই লিংকে ক্লিক করে ই-কমার্স সাইটে গিয়ে সেই পন্য কেনে, তবে ভিডিও আপলোডকারী কিছুটা কমিশন পাবে। এ ক্ষেত্রে অনেকে অ্যামাজান, ই-বে বা অন্য কোনো অ্যাফিঢিয়েট নেটওয়ার্কের পণ্যের অ্যাফিলিয়েশন করে থাকেন। এ পদ্ধতিতে খুবই কম খরচে বা বিনা খরচে সহজেই মাস গেলে অনেক টাকা কামিয়ে নিতে পারবেন।

উপায়-৩:  ইউটিউব পার্টনার:

          বর্তমানে পৃথিবীব্যাপী প্রায় ১৫ হাজারেরেো বেশি ইউটিউব পার্টনার আছেন। পার্টনারেরা ভাড়ার ভিত্তিতে ওভারলে করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করেন এবং আয় ইউটিউবের সাথে ভাগাভাগি করে নেন। যারা ভিডিও ওভারলে করতে পারেন, তাদেরকে অনেক বড় বড় কোম্পানী তাদের ভিডিও মার্কেটার হিসেবে চাকরির অফার করে থাকে। তারা নির্দিষ্ট ব্রান্ডের জন্য বিশেষ ভিডিও তৈরী করে অনেক টাকা উপার্জন করেন। ইউটিউব পার্টনার হওয়ার জন্য আপনার তৈরী  করা চ্যানেলে বাম পাশের অপশন থেকে My Channel এ ক্লিক করলে  You Tube Channel দেখতে পাবেন। চ্যানেলটির নামের উপরে Video Manager নামে যে অপশনটি রয়েছে তাতে ক্লিক করুন। এখন বাম পাশের চ্যানেল অপশনে ক্লিক করার পর ডানে আপনার নামের পাশে থাকা Partner Verified না করলে আপনার ভিডিওগুলোকে Monetized  করতে পারবেন না।

উপায়-৪:  নিজস্ব পন্য বিক্রি:

          মনে করুন, আপনার কাপড়ের দোকান আছে। দোকানের ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের কাপড়ের বিশেষত্ব নিয়ে আপনি কিছু ভিডিও বানাতে পারেন। অনেকটা টিভির এ্যাডের মতো করে বানানো এই ভিডিও ক্লিপ গুলো ইউটিউবে আপলোড করে দিন। টিভি বা প্রিন্ট মিডিয়াতে অ্যাড দেওয়া বেশ ব্যায় সাধ্য ব্যাপার। ইউটিউবে বিনামূল্যেই নিজের পন্যের মার্কেটিং করে নেয়ার বিশাল সুযোগ রয়েছে। আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে কতজনই বা ভিডিও দেখে আপনার পন্য কিনবে? একটি ইউটিউব চ্যানেল জনপ্রিয় করতে পারলে তার ভিজিটরের সংখ্যা অনেক বাড়ানো সম্ভব।

উপায়-৫: ভিডিও ডেসক্রিপশন লিংক বিক্রি:

          আপনার চ্যানেল যখন বেশ জনপ্রিয় হবে এবং অনেক ভিজিটর থাকবে , তখন আপনি ভিডিও ডেসক্রিপশন  লিংক বিক্রি করতে পারবেন। মনে করুন, মোবাইল ফোন ও এক্সেসরিজ রিভিউ নিয়ে আপনার বেশ একটি জনপ্রিয় একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে। এখন এই ধরনের পন্য যে বিক্রি করে সে আপনাকে তার দোকানের লিংক আপনার ভিডিও ডেসক্রিপশনে দেয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ অফার করতে পারে। এভাবে তার পণ্যের মার্কেটিংও হলো আপনার কিছু আয়ও হলো।

ইউটিউবে আয়ের জন্য যা যা লাগবে :

১। গুগল অ্যাকাউন্ট

২। ইউটিউব অ্যাকাউন্ট

৩। ইউটিউব চ্যানেল

৪। ভালো রেজুলেশনের ভিডিও ক্যামেরা বা হাইমেগাপিক্সেল ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল ফোন

৫। গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট

৬। ডেক্সটপ বা ল্যাপটপ

৭। ভিডিও এডিটিং টুল

ইউটিউব কিভাবে টাকা দেয় :

          ইউটিউব মুলত টাকা দেয় ডলারের মাধ্যমে যা আপনি বিভিন্ন ব্যাংকে কনভার্ট করে আমাদের দেশের টাকায় পরিনত করে নিতে পারেন।

ইউটিউব অ্যাডসেন্স তাদের টাকাগুলো সাধারণত দুটি উপায় দিয়ে থাকেন একটি হলো ব্যাংকের মাধ্যমে অন্যটি চেকের মাধ্যমে।

ব্যাংকের মাধ্যমে হলে আপনি যে কোন ব্যাংকের মাধ্যমে আপনার একাউন্টে টাকা ট্রান্সাফার করে নিতে পারবেন।

আর চেকের মাধ্যমে হলে ডাকযোগে চেক পাঠিয়ে দিবে যা আপনি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে পারবেন।

এছাড়াও বিভিন্ন মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবেন।

সবশেষে বলা যায় যে, ইউটিউব হলো গুগলের অংশ, সেহেতু এখানে নিজের মেধা ও পরিশ্রম কাজে লাগিয়ে বিশ্বস্ততার সাথে টাকা আয় করা সম্ভব। এখানে আরেকটি বড় সুবিধা – সাইটের জন্য কোন ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন এবং ভিডিও আপলোডের জন্য হোষ্টিং এর প্রয়োজন হয় না। তার উপর গুগলের নিজস্ব সেবা গুগল  অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে আয় করার ব্যবস্থা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top