কম্পিউটার স্লো হলে গতি বাড়াবেন যেভাবে –

কম্পিউটার স্লো হলে গতি বাড়াবেন যেভাবে –

কম্পিউটার ছাড়া বর্তমান সময়ে কোন কিছু কল্পনা করা সম্ভব নয়। ইহা আমাদের নিত্য ব্যবহার্য যন্ত্রে  পরিনত হয়েছে। কম্পিউটার ছাড়া যে কোন পেশার মানুষই হোক না কেন পরিপুর্ণতা পায় না। সকল কাজ কর্মে কম্পিউটারের প্রয়োজন যেমন: অফিসিয়াল কাজকর্মে, দৈনন্দিন কাজে, ছবি দেখা, গান শুনা, গ্রাফিক্স সহ সবধরনের কাজে কম্পিউটার ছাড়া যেন আমাদের একেবারেই চলা সম্ভব নয়। এই সকল কাজ দীর্ঘদিন যাবত নিয়মিত করে চললে কম্পিউটারের গতি আগের মতন থাকে না। ক্রমানয়ে ধীর গতিতে পরিনত হয়। তখন আমাদের কম্পিউটারে কাজ করা অসুবিধা হয় এবং সমস্যা মনে করে । এই অবস্থায় আমরা কম্পিউটারে নতুন করে অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করে থাকি। কম্পিউটার ধীর গতি হবার পিছনে অনেক ধরনের কারণ থাকতে পারে। যাহা আমাদের সবারই জানা থাকা খুবই জরুরী। তবে নিচের কারণগুলির জন্য ধীর গতি বেশি পরিমানে হয়ে থাকে।

১।  কম্পিউটারে ভাইরাস থাকা।

২। হার্ডড্রাইভে ব্যাড সেক্টর পড়ার কারনে ।

৩। কম্পিউটারে অপর্যাপ্ত র‌্যাম থাকলে।

৪। সঠিকভাবে ড্রাইভ ড্রাইভার ইনস্টল না করার কারনে কম্পিউটার স্লো হয়।

5। অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার দিয়ে পিসির মেমোরি ফুল করা হলে কম্পিউটার স্লো হয়, তাই নিয়মিত কাজে লাগে না এমন সফটওয়্যার কম্পিউটারে ইনস্টল না করা উচিত।

৬। এছাড়াও, অনেকের কম্পিউটারে একই কাজের বা ধরণের সফটওয়্যার একাধিক করে থাকে, যেমন ইন্টারনেট ব্রাউজ করার জন্য ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, মজিলা এবং ক্রোম আবার ছবি এডিট করার জন্য ফটোশপ আছে, আবার পিকাসাও ইনস্টলড করা; কেউ কেউ এমনকি একই কম্পিউটারে দুটি বা তিনটি অ্যান্টিভাইরাস পর্যন্ত ব্যবহার করেন! এটি কম্পিউটার স্লো হওয়ার পেছনের সবচেয়ে বড় কারণ।

৭। আমাদের সব সময় খেয়াল রাখতে হবে কম্পিউটার বা নিত্য ব্যবহার্য কাজের কম্পিউটার অতীতের ছবি, এইচডি মুভি বা পারিবারিক হিসাব-নিকাশের ফাইল সংরক্ষণের জন্য আলাদা তথা পোর্টেবল ইউএসবি হার্ডডিস্ক ব্যবহার করুন।

৮। কম্পিউটার স্লো হবার পিছনে আর একটি কারন হচ্ছে টেম্পরি ফাইল জমা হবার কারনে।

আপনার ধীর গতির কম্পিউটারে কিভাবে গতি বাড়াবেন। তাই এজন্য আপনাকে কিছু কাজ করতে হবে কম্পিউটারে। যা করলে আপনার কম্পিউটারের গতি বাড়বে এবং আপনি দ্রুত কাজ করতে পারবেন।

১।  টেম্পোরারি ফাইল গুলো Delete করে আপনার কম্পিউটারকে কিভাবে গতিশীল করবেন,তা নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে।

টেম্পোরারি ফাইল অপসারণ করার জন্য আপনাকে যা যা করতে হবেঃ

টেম্পোরারি ফাইল মুছতে কীবোর্ডের উইন্ডোজ এবং ‘R’ বাটন একসাথে চাপুন। রান উইন্ডো এলে টাইপ করুন ‘temp’, এরপর Enter চাপুন। নতুন উইন্ডোতে টেম্পোরারি ফাইলগুলো প্রদর্শিত হলে ‘ctrl’ এবং ‘A’ একসাথে চেপে সব সিলেক্ট করুন। ‘Delete’ বাটন প্রেস করুন। মুছে ফেলা হবে কি না জানতে চাইলে ‘Continue’ দিন। কোনো ফাইল চালু অবস্থায় থাকলে তা অপসারণ করা যাবে না জানিয়ে বার্তা এলে ‘Skip’ বাটন প্রেস করুন।

২। নিয়মিত Disk Defragmenter করুনঃ কিছুদিন পর পর হার্ডডিস্ক ডিফ্রেগমেন্ট করুন। এতে করে আপনার হার্ডডিস্কের গতি বাড়বে। হার্ডডিস্ক ডিফ্রেগমেন্ট করতে My computer হতে properties এ যান। সেখান হতে Performance Information and Tools এ যান এবং সর্বশেসষ Advanced Tools হতে Open Disk Defragmenter এ যান। আর সরাসরি যেতে চাইলে Search বার এDisk Defragmenter লিখে  এন্টার চাপুন।

৩।  মালওয়্যার, স্পাইওয়্যার দূর করুনঃ মালওয়্যার, স্পাইওয়ার এবং সর্টকাট ভাইরাস ইত্যাদি বেশিরভাগ ছড়ায় পেনড্রাইভ হতে। পেনড্রাইভের ভাইরাস হতে পিসিকে মুক্ত রাখে ব্যবহার করতে পারেন USB Disk Security. নিচে সফটওয়্যারের লিঙ্ক দিয়ে দিলাম। USB Disk Security

৪। পিসিকে ভাইরাস মুক্ত রাখুনঃ ভাইরাস আপনার পুরো পিসি ধ্বংস করে দিতে পারে। সেই সাথে আপনার প্রয়োজনীয় সব ফাইলও শেষ করে দিতে পারে। এর জন্য ভালমানের এন্টি ভাইরাস ব্যবহার করতে পারেন। 

৫। Browsing History এবং Cooky দূর করেনঃ ব্রাউজিং হিস্টোরি এবং কুকিসমূহ র‍্যামে জমা হয়ে র‍্যামে গতি কমিয়ে দিতে পারে। তাই প্রতিদিন ব্রাউজিং হিস্টোরি এবং কুকিসমূহ ডিলিট করুন। এজন্য যেকোন ব্রাউজার খুলে Shift+Ctrl+Delete চাপে সবকিছু ডিলিট করে দিন।

৬।  অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম স্টার্টআপ দূর করুনঃ পিসি চালু হলে অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম চালু হয়। সেই প্রোগ্রামগুলোর কারণে পিসির স্টার্ট হতে অনেক সময় নেয় এবং র‍্যমের জায়গা দখল করে। অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম অটোস্টার্ট বন্ধ করতে Run এ গিয়ে লিখুন msconfig লিখে এন্টার চাপুন এবং যে সকল প্রোগ্রাম আপনার দরকার নেই সেগুলো Disable করে দিন

৭। নিয়মিত ড্রাইভ রিফ্রেশ করুনঃ পিসিকে সচল রাখতে নিয়মিত ড্রাইভ রিফ্রেশ করুন। এর জন্য নিচের কোডটুকু text ফাইলে লিখে Refresg.bat নামে সেভ করুন। প্রতিদিন এটাতে ক্লিক করে ড্রাইভকে সচল রাখুন। Echo Off cd/ tree C: tree D: tree E:

৮।  কম্পিউটার ঠাণ্ডা রাখুন
কম্পিউটারের ভেতরের যন্ত্রগুলো অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে তার গতি কমে যেতে পারে কিংবা বন্ধও হয়ে যেতে পারে। এ সমস্যা দেখা দিলে প্রথমেই কম্পিউটারের বাতাস চলাচলের পথগুলো উন্মুক্ত রাখতে হবে। ভেতরে ময়লা জমলে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ল্যাপটপে এমনটা হলে বাড়তি ফ্যানসহ কুলিং প্যাড ব্যবহার করতে পারেন। আর ডেস্কটপ কম্পিউটার বেশি গরম হলে বাড়তি ফ্যান লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

৯।  টেম্পোরারি ফাইল ডিলিট করুন
আপনার ইন্টারনেটের ফাইলগুলো কি কখনো ডিলিট করেছেন? যে কোনো ওয়েবসাইট ভিজিট করলেই এসব ফাইল কম্পিউটার সেভ করে রাখে। আর এ প্রক্রিয়ায় কম্পিউটার ক্রমে ধীরগতির হয়ে যায়। এ ঝামেলা দূর করার জন্য আপনার নিয়মিত টেম্পোরারি ফাইল ডিলিট করা উচিত। এছাড়া কম্পিউটারেরও কিছু টেম্পোরারি ফাইল থাকে। এগুলো ডিলিট করার ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি আছে। আপনি যে ব্রাউজার ব্যবহার করেন সেটার এবং কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম অনুযায়ী খবর নিয়ে টেম্পোরারি ফাইলগুলো ডিলিট করে নিন।

১০।  একসঙ্গে বেশি প্রোগ্রাম চালাবেন না
কম্পিউটারে যদি আপনার একসঙ্গে অনেকগুলো প্রোগ্রাম কিংবা ওয়েবসাইট চালানোর অভ্যাস থাকে তাহলে সেটা বাদ দিন। এ কারণে কম্পিউটারের ব্যবহারযোগ্য মেমোরি কমে যায় এবং কম্পিউটারের গতিও কমে পাল্লা দিয়ে।

১১।   মেমোরি সমস্যা মোকাবেলা
কম্পিউটার যদি হয় পুরনো মডেলের তাহলে নতুন সফটওয়্যার চালাতে তা সমস্যায় পড়তে পারে। এ সমস্যা মোকাবেলায় সবার আগে দেখতে হবে কম্পিউটারে অতিরিক্ত র‌্যাম লাগানোর উপায় আছে কি না। যদি পর্যাপ্ত র‌্যাম লাগানো যায়, তাহলে কম্পিউটারের গতি আগের তুলনায় অনেক বাড়বে।

১২।  রক্ষণাবেক্ষণ
কম্পিউটারের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে আপডেটেড ভাইরাস গার্ড দিয়ে নিয়মিত কম্পিউটার স্ক্যান করা। এছাড়া খুঁজে দেখতে হবে স্পাইওয়্যারও। অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আনইনস্টল করাও গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। আপনার কম্পিউটার যদি অস্বাভাবিকভাবে ধীর হয়ে যায় তাহলে আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে ভালোভাবে স্ক্যান করে নেওয়া প্রয়োজন।

        উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে চললে আশা করি কম্পিউটারের গত কমবে না। বরংই সব সময় বেড়েই চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top