ভিডিও কন্টেন্টের মাধ্যমে আয় করার জন্য সেরা কিছু ওয়েবসাইট

আপনি যদি ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে খেলতে পছন্দ করেন কিংবা ইউটিউবে নিজের চ্যানেল খুলে আয় করার কথা চিন্তা করে থাকেন, তাহলে আজকের পোস্ট আপনার জন্যই। আপনি যদি ভিডিও ডেভেলপ করতে পছন্দ করেন ও ভিডিও এডিটিংয়ের মতো কাজগুলো খুবই সহজ বলে মনে করেন, তাহলে আপনি ইউটিউবের মতো বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভিডিও কন্টেন্ট আপলোড করে আয় করতে পারেন।

বর্তমানে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে বিখ্যাত হওয়ার অনেক নমুনা দেখতে পাওয়া যায়। হাজার হাজার মানুষ গুগলের ভিডিও শেয়ারিংয়ের এই ওয়েবসাইটে ভিডিও আপলোড করে নিজেকে সফল ব্যক্তিতে পরিণত করছেন। জেনা মার্বেল নাম্নী এক নারীর ইউটিউবে কয়েক মিলিয়নের উপর ভক্ত রয়েছে এবং তিনি ইউটিউব থেকে প্রত্যেক বছরে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ডলারের মতো আয় করে থাকেন।

কিন্তু ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে সফল হওয়ার গল্প শোনাটা যতটা সহজ, বাস্তবে সফল হওয়াটা আসলে ততটা সহজ নয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে, ইউটিউব তার ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন মানিটাইজেশন নিয়ম তৈরি করেছে। আর এই নতুন নিয়মে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে সফল হওয়াটাও অনেকটা কঠিন হয়ে গিয়েছে। সেজন্য আপনাকে হয়তো ইউটিউবের বিকল্প ওয়েবসাইট খুঁজতে হতে পারে। আজকের আর্টিকেলে আমি এমন কিছু ওয়েবসাইট নিয়ে কথা বলবো যেগুলো দ্বারা ইউটিউবের মতোই ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে আয় করা যায়।

ব্রাইটকোভ

স্টুডিও ব্রাইটকোভের এই ওয়েবসাইটে আপনি আপনার তৈরি করা বিভিন্ন ধরণের ভিডিও ভাড়া দিতে পারবেন কিংবা বিক্রির জন্য আপলোড করতে পারবেন। আপনাকে শুধুমাত্র ৯৯ সেন্ট চার্জ বহন করতে হবে। প্রত্যেকটি ভিডিও বিক্রির পর আপনাকে ৭০ শতাংশ কমিশন দেয়া হবে।

ব্রেক

এই ওয়েবসাইটে আপনি শুধুমাত্র ভিডিওই নয়, ভিডিওর পাশাপাশি ফ্ল্যাশ, গেইমস ও ছবি আপলোড করতে পারবেন। তারা যেকোনো ভিডিও যদি ফ্রন্ট পেইজে আপলোড করে তাহলে আপনি একটা ভিডিওর জন্য সর্বোচ্চ ২০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। ব্রেক থেকে আপনি পেপালের মাধ্যমে পেমেন্ট পাবেন।

মেটাকেফে

মেটাকেফেতে আপলোড করা প্রত্যেকটা ভিডিও থেকে ভিউয়ের সংখ্যার উপর অর্থ প্রদান করা হয়। যেখানে ইউটিউবে প্রত্যেক ১০০০ ভিউয়ের জন্য আপনাকে দেয়া হবে ১ ডলার, সেখানে মেটাকেফেতেপ্রত্যেক ১০০০ ভিউয়ের জন্য আপনাকে দেয়া হবে ৫ ডলার করে।

ফ্লিক্সইয়া

ফ্লিক্সইয়া মূলত আপনার আপলোড করা ভিডিওটিকে ডেমোগ্রাফিক্যালি অ্যাডের জন্য টার্গেট করবে। সেক্ষেত্রে আপনাকেও সেই ভিডিওর জন্য মার্কেটিং করতে হবে। কারণ, আপনার ভিডিওটির রিচের উপর নির্ভর করবে আপনার আয়। ফ্লিক্সইয়ার আরেকটি অসাধারণ ফিচার হচ্ছে, এখানে আপনি যেকোনো ধরণের ভিডিও আপলোড করতে পারবেন আর সেজন্য আপনাকে কপিরাইটের কোনো ঝামেলাতেও পড়তে হবে না।

কাস্টম ফ্লিক্স

এই ওয়েবসাইটটি মূলত অ্যামাজনের। আপনি এখানে যেকোনো ধরনের ভিডিও আপলোড করে আয় করতে পারবেন। যদিও কাস্টম ফ্লিক্স মূলত ফিল্মমেকারদের জন্য। অর্থাৎ, দীর্ঘ ভিডিও আপলোডের জন্য এই ওয়েবসাইটটি বিখ্যাত। আপনার যেকোনো ভিডিও বিক্রি হওয়ার পর সেখান থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমিশন পাবেন।

ব্লিপ ডট টিভি

যারা প্রায়ই ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে থাকেন, তাদের জন্য ব্লিপ ডট টিভি অন্যতম। এই ওয়েবসাইটটি মূলত টিভি শো তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই সাইটের সবচেয়ে ভালো একটি ফিচার হচ্ছে, তারা কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের হাতে অ্যাডভার্টাইজমেন্টের অনেক অপশন দিয়ে থাকে। যার ফলে আপনি অনেক সহজেই আপনার ভিডিওতে অ্যাড কাস্টোমাইজ করতে পারবেন।

অ্যাটম ফিল্মস

এই ওয়েবসাইটটি মূলত এমটিভি এন্টারটেইনমেন্টের একটি সাবসিডিয়ারি চ্যানেল। সুতরাং, এখানে আপনি শুধুমাত্র এমটিভি ডেমোগ্রাফিকের উপর নির্ভর করে এমন ধরণের ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। অ্যাটম ফিল্মস আপনাকে পেপালের মাধ্যমে আপনার ভিডিওর জন্য অর্থ প্রদান করবে।

ডেইলিমোশন

আপনি যদি ডেইলিমোশনে ভিডিও আপলোড করে আয় করতে চান তাহলে আপনাকে পাবলিশার অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এখানে আপনার ভিডিও যদি তাদের দ্বারা অ্যাপ্রুভ করা হয় তাহলে ১৯০ মিলিয়ন ইউজার আপনার ভিডিও দেখে থাকবে। তারা আপনার ভিডিও বিক্রির পর প্রত্যেক বছরে চার বার পেমেন্ট করবে। ১০০ ডলারের উপরে হলেই তারা ব্যাংক ট্রান্সফার করে থাকে।

ভিমিও

আপনি যদি ভিডিও ব্লগিংয়ের উপর সিরিয়াস হয়ে থাকেন, তাহলে ভিমিও আপনার জন্যই। কারণ, তাদের সাইটে প্রত্যেক মাসে ৩০০ মিলিয়নের উপর ইউজার ভিজিট করে থাকে। আপনি এখানে দুটো উপায়ে আয় করতে পারবেন। প্রথমটি হচ্ছে, প্রো ইউজার হিসেবে অ্যাকাউন্ট করলে আপনার ভিডিও জন্য আপনি ডোনেশন সংগ্রহ করতে পারবেন এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে, প্রত্যেক ভিডিওতে ভিউয়ের সংখ্যার উপর ভিমিওআপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে।

টুইচ

আপনি যদি গেইমিং করতে পছন্দ করেন ও গেইমিং ভিডিও তৈরি করে থাকেন, তাহলে টুইচ আপনার জন্যই। এই সাইটটিও অ্যামাজনের। টুইচকে বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সোশ্যাল গেইমিং ভিডিও প্লাটফর্ম। এখানে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। তাদের অ্যাড রেভিনিউ স্ট্রিম, ইউটিউবের মতোই।

শুধুমাত্র ভিডিও কন্টেন্ট আপলোড করার মাধ্যমেই নয়, এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখানে ভিডিও কন্টেন্ট দেখার জন্যও আপনাকে অর্থ প্রদান করা হবে। যেমন:

পেইড টু ইউটিউব

এই ওয়েবসাইট থেকে আপনি ইউটিউব ভিডিও দেখার মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। যদিও পেইড টু ইউটিউবে খুবই কম পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়, কিন্তু ভিডিও দেখে আয় করার জন্য এটা সম্পূর্ণ লেজিট একটি মাধ্যম। প্রত্যেক ভিডিও দেখার জন্য আপনাকে দেয়া হবে ০.০০৫ ডলার। সুতরাং বুঝতেই পারছেন যে, আপনাকে ভিডিও দেখার জন্য অনেক সময় ব্যয় করতে হবে। এছাড়াও আপনি কমেন্ট করে, রেফারেল তৈরি করে ও রেটিং দিয়ে অতিরিক্ত কিছু অর্থ আয় করতে পারবেন।

পেইড টু ইউটিউবের মতো আরো অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো আপনাকে ভিডিও দেখার জন্য কিছু অর্থ দিয়ে থাকবে। তার মধ্যে বেশ ভালো কিছু সাইট হচ্ছে সাক্সেস বাক্সইউ কিউবজকুইক রিওয়ার্ডসসোয়াগবাক্স ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top