বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সেরা কিছু ইনফরমেশন টেকনোলজি ক্যারিয়ার

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় একশ’র বেশি সফটওয়্যার হাউস, চল্লিশের বেশি ডেটা এন্ট্রি সেন্টার, প্রায় হাজারের উপর ফর্মাল এবং ইনফর্মাল আইটি ট্রেনিং সেন্টার এবং অসংখ্য কম্পিউটারের দোকান রয়েছে। আইটি সেক্টরে বর্তমানে বাংলাদেশ অনেক উপরে উঠে গিয়েছে।

আইটি সেক্টরের প্রায় হাজার হাজার চাকরির অপশন বর্তমানে খোলা রয়েছে। কিন্তু এত চাকরির মাঝে আইটির কোন বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়া উচিৎ সেটা নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় ভোগেন।

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আইটির যেসব বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়াটা সবচেয়ে বেশি উপকারি হবে সে বিষয়গুলো নিয়েই আজকের এই আর্টিকেল।

প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট

একজন প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট মূলত যেকোনো সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যারের সাথে ইমপ্লিমেন্টেড প্রোগ্রামের অ্যানালাইসি করে সেটার সমস্যার সমাধান করে থাকেন। একজন প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আপনাকে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস, প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর ব্যাচেলরস ডিগ্রি অথবা মাস্টার্স ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে। একজন প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে, আপনাকে যে সকল বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে তা হচ্ছে,

  • টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল বিষয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।
  • অ্যানালিটিক্যাল দক্ষতা থাকতে হবে।
  • বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।
  • আইটির উপর বেশ ভালো দক্ষতা থাকতে হবে।
  • মাইক্রোসফট অফিসসহ অন্যান্য অফিস অ্যাপ্লিকেশনের উপর যথেষ্ট অভিজ্ঞ হতে হবে।
  • বিভিন্ন ধরণের সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন ও হার্ডওয়্যারের উপর দক্ষ হতে হবে।
  • কম্পিউটার ও আইটি ইথিকসের উপর পারদর্শী হতে হবে।
  • সূক্ষ থেকে সূক্ষতর বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকতে হবে।
  • ক্রিয়েটিভ থিংকিং করার দক্ষতা থাকতে থাকবে।
  • নিত্যনতুন টেকনোলজির সাথে আপডেটেড থাকতে হবে।
  • অসাধারণ স্ট্র্যাটেজিক ও প্ল্যানিং করার দক্ষতা থাকতে হবে।
  • বিভিন্ন ডিভাইসের জন্য মাইক্রোপ্রসেসর ও অন্যান্য মাইক্রোচিপ ইক্যুইপমেন্ট তৈরি করার দক্ষতা থাকতে হবে।
  • যেকোনো প্রোগ্রামিং ভাষার সাথে সম্পৃক্ত অ্যালগরিদম ও ফ্লো চার্ট সম্পর্কে জানতে হবে।
  • কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের এম্বেডেড সিস্টেমস সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।
  • টিসিপি/আইপি, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং, রাউটিং এবং সুইচিং সম্পর্কে জানতে হবে।
  • ডিএলপি, অ্যান্টিভাইরাস ও অ্যান্টি ম্যালওয়্যারের উপর দক্ষ হতে হবে।
  • ফায়ারওয়াল, ইনট্রুশাল ডিটেকশন সিস্টেম ও প্রিভেন্টিং প্রোটোকল সম্পর্কে জানতে হবে।
  • সিকিউর কোডিং, ইথিক্যাল হ্যাকিং ও থ্রেট মডেলিং সম্পর্কে সম্পূর্নভাবে দক্ষ হতে হবে।
  • উইন্ডোজ, ইউনিক্স, লিনাক্স (বিভিন্ন ডিস্ট্রো) এবং ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের উপর গভীর দক্ষতা থাকতে হবে।
  • আইএসও ২৭০০১/২৭০০২, আইটিআইএল ও সিওবিআইটি ফ্রেমওয়ার্কের উপর দক্ষ হতে হবে।
  • সি, সি প্লাস প্লাস, জাভা, পিএইচপি, পাইথন, জাভাস্ক্রিপ্ট, ওয়েব প্রোগ্রামিং ভাষা (যেমন, এইচটিএমএল, সিএসএস ইত্যাদি), স্ক্রিপ্টিং ভাষা ও শেল প্রোগ্রামিং ভাষায় গভীর দক্ষতা থাকতে হবে।

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মূলত যেকোনো কোম্পানির জন্য সফটওয়্যার ডিজাইন, ডেভেলপ ও ম্যানেজমেন্টের কাজ করে থাকেন। একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আপনাকে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর ব্যাচেলরস ডিগ্রি অথবা মাস্টার্স ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে। একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে যেসব কাজ করতে হয়, সেগুলো হচ্ছে,

  • বিভিন্ন সিস্টেম, প্রোগ্রাম, হার্ডও্য়্যার এবং নেটওয়ার্কের অ্যাপ তৈরি করা
  • সিস্টেম ও নেটওয়ার্কের অনধিকার প্রবেশ, মডিফিকেশন ও ডেস্ট্রাকশন ফেজ থেকে অ্যাপকে রক্ষা করা।
  • বিভিন্ন ধরণের সিকিউরিটি অ্যাপ্লিকেশন ও টুলসকে (যেমন, ফায়ারওয়াল, অ্যান্টিভাইরাস, প্যাচ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ইত্যাদি) সাপোর্ট ও কনফিগার করা।
  • বিভিন্ন সফটওয়্যারের কন্ট্রোল স্ট্রাকচার, রিসোর্স ও এক্সেস প্রিভিলিজেস রক্ষা করা।
  • সিস্টেম ও অ্যাপের ভালনারেবিলিটি, রিস্ক অ্যানালাইসিস ও সিকিউরিটি অ্যাসেসমেন্ট পরীক্ষা করা।
  • বিভিন্ন সফটওয়্যার, সিস্টেম ও নেটওয়ার্কের অ্যাবনরমালিটি ও ভায়োলেশনের রিপোর্ট তৈরি করা।
  • সফটওয়্যারের সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রুটিন মনিটরিং করা।
  • বিজনেস কন্টিনিউটি ও ডিজেস্টার। রিকোভারি প্রোটোকল ডেভেলপ ও আপডেট করা।
  • বিভিন্ন সিকিউরিটি কনফারেন্স ও ট্রেইনিংয়ে সিকিউরিটি প্রোটোকল, প্রসিডিউর ও নিরাপত্তা সচেতনতা সম্পর্কে আলোচনা করা
  • অপারেশনাল সিকিউরিটি ও সিকিউরিটি থ্রেডের জন্য সিকিউরিটি অডিট ডিজাইন ও পরিচালনা করা।
  • বিভিন্ন কম্পিউটার সিকিউরিটি অ্যাটাকের জন্য প্রস্তুত থাকা ও অ্যাটাকের পোস্ট অ্যানালাইসিস করা।
  • সিকিউরিটি আপগ্রেড সম্পর্কে রিসার্চ করা
  • বিভিন্ন সিস্টেম স্পেশালাইজড সিকিউরিটি সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ডেভেলপ করা

ওয়েবসাইট ডেভেলপার

একজন ওয়েবসাইট ডেভেলপার মূলত যেকোনো কোম্পানির জন্য ওয়েবসাইটের ইন্টারফস, ডিজাইন, ডেভেলপ, মনিটরিং এবং ম্যানেজমেন্টের কাজ করে থাকেন। একজন ওয়েবসাইট ডেভেলপার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আপনাকে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর ব্যাচেলরস ডিগ্রি অথবা মাস্টার্স ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে। একজন ওয়েবসাইট ডেভেলপার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে, আপনাকে যে সকল বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে তা হচ্ছে,

  • টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল বিষয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।
  • আইটির উপর বেশ ভালো দক্ষতা থাকতে হবে।
  • মাইক্রোসফট অফিসসহ অন্যান্য অফিস অ্যাপ্লিকেশনের উপর যথেষ্ট অভিজ্ঞ হতে হবে।
  • বিভিন্ন ধরণের সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন ও হার্ডওয়্যারের উপর দক্ষ হতে হবে।
  • কম্পিউটার ও আইটি ইথিকসের উপর পারদর্শী হতে হবে।
  • ক্রিয়েটিভ থিংকিং করার দক্ষতা থাকতে থাকবে।
  • নিত্যনতুন টেকনোলজির সাথে আপডেটেড থাকতে হবে।
  • যেকোনো প্রোগ্রামিং ভাষার সাথে সম্পৃক্ত অ্যালগরিদম ও ফ্লো চার্ট সম্পর্কে জানতে হবে।
  • কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের এম্বেডেড সিস্টেমস সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।
  • ডিএলপি, অ্যান্টিভাইরাস ও অ্যান্টি ম্যালওয়্যারের উপর দক্ষ হতে হবে।
  • ফায়ারওয়াল, ইনট্রুশাল ডিটেকশন সিস্টেম ও প্রিভেন্টিং প্রোটোকল সম্পর্কে জানতে হবে।
  • সিকিউর কোডিং, ইথিক্যাল হ্যাকিং ও থ্রেট মডেলিং সম্পর্কে সম্পূর্নভাবে দক্ষ হতে হবে।
  • উইন্ডোজ, ইউনিক্স, লিনাক্স (বিভিন্ন ডিস্ট্রো) এবং ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের উপর গভীর দক্ষতা থাকতে হবে।
  • পিএইচপি, পাইথন, জাভাস্ক্রিপ্ট, ওয়েব প্রোগ্রামিং ভাষা (যেমন, এইচটিএমএল, সিএসএস ইত্যাদি), স্ক্রিপ্টিং ভাষা ও শেল প্রোগ্রামিং ভাষায় গভীর দক্ষতা থাকতে হবে।

কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

একজন কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মূলত যেকোনো কোম্পানির কম্পিউটারের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার ও ইক্যুইপমেন্টের ডিজাইন, ইন্সটলেশন, ডেভেলপমেন্ট এবং রিসার্চের কাজ করে থাকেন। একজন কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আপনাকে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর ব্যাচেলরস ডিগ্রি অথবা মাস্টার্স ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে। একজন কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে, আপনাকে যে সকল বিষয়েপারদর্শী হতে হবে তা হচ্ছে,

  • টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল বিষয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।
  • আইটির উপর বেশ ভালো দক্ষতা থাকতে হবে।
  • মাইক্রোসফট অফিসসহ অন্যান্য অফিস অ্যাপ্লিকেশনের উপর যথেষ্ট অভিজ্ঞ হতে হবে।
  • বিভিন্ন ধরণের হার্ডওয়্যার ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের উপর দক্ষ হতে হবে।
  • কম্পিউটার ও আইটি ইথিকসের উপর পারদর্শী হতে হবে।
  • সূক্ষ থেকে সূক্ষতর বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকতে হবে।
  • ইলেক্ট্রনিক সার্কিট অ্যানালাইসিস, ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসিং, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক্স ইক্যুইপমেন্টের উপর দক্ষ হতে হবে।
  • কম্পিউটারের উচ্চ ও নিম্ন লেভেলের প্রোগ্রামিং ভাষায় যথেষ্ট অভিজ্ঞ হতে হবে।
  • বিভিন্ন ডিভাইসের জন্য মাইক্রোপ্রসেসর ও অন্যান্য মাইক্রোচিপ ইক্যুইপমেন্ট তৈরি করার দক্ষতা থাকতে হবে।
  • যেকোনো প্রোগ্রামিং ভাষার সাথে সম্পৃক্ত অ্যালগরিদম ও ফ্লো চার্ট সম্পর্কে জানতে হবে।
  • কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের এম্বেডেড সিস্টেমস সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top