মাইক্রোসফট অফিসের সেরা ৭ টি বিকল্প

ফিসিয়াল কাজের জন্যে মাইক্রোসফট অফিস হচ্ছে সর্বোত্তম অ্যাপ্লিকেশন। কিন্তু অনেক সময়েই বিভিন্ন কারণে মাইক্রোসফট অফিসে আমরা কাজ করতে পারি না বা চাই না। সেক্ষেত্রে আমরা মাইক্রোসফট অফিসের মতোই অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশন খুঁজে থাকি।

আজকে আমরা দেখবো মাইক্রোসফট অফিসের পরিবর্তে ব্যবহার করা যায় এমন সাতটি অ্যাপ্লিকেশন ও ওয়েবসাইট।

অফিসিয়াল কাজের জন্যে ৩ টি অনলাইন ওয়েবসাইট

গুগল ডকস (Google Docs)

মাইক্রোসফট অফিসের পরে সবচেয়ে সেরা অফিস অ্যাপ্লিকেশন হচ্ছে গুগল ডকস। গুগল ডকস অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে আপনি পাবেন গুগল স্লাইড , গুগল ডক ও গুগল শিট।  আপনি কেনো এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করবেন? কারণ, এটা ব্যবহার করা অনেক সহজ। ডিজিটাল মার্কেটারদের জন্যেও গুগল ডকস বেশ কাজের একটি অ্যাপ।

ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনটি ইন্সটল করার দরকার পড়ে না। আপনি কোনো ধরনের শেয়ারিং অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল না করেই সম্পূর্ণ ফাইলটি শেয়ার করতে পারবেন। এটা মাইক্রোসফট অফিসের মতোই কাজ করে এবং মাইক্রোসফট অফিসের বেশ কয়েক ধরনের ফাইল এক্সটেনশন সাপোর্ট করে। তাছাড়া এখানে পাবেন গুগলের স্পিচ টু টেক্সট ভয়েস টাইপিং।

এর কিছু ফিচার হচ্ছে,

  • ১৫ গিগাবাইট পর্যন্ত যেকোনো ফাইল সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।
  • কখন অ্যাপ্লিকেশনটি আপডেট হচ্ছে সে সম্পর্কে খবরাখবর রাখতে পারবেন।
  • ৫০ জন ব্যবহারকারীর সাথে একই সময়ে কাজ করতে পারবেন।
  • একজন ব্যবহারকারীর জন্যে পারমিশন কম্পেটেবল ফাইল তৈরী করতে পারবেন।
  • যা সেভ করবেন, তা অফলাইনে রেখেই বের হয়ে আসতে পারবেন এবং অনলাইনে যাওয়ার সাথে সাথেই তা সিনক্রোনাইজ করতে পারবেন।
  • অন্যান্য গুগল সেবার সাথে সরাসরি যুক্ত হতে পারবেন।
  • গুগলের ফন্টস লাইব্রেরী থেকে ইচ্ছেমতো ফন্ট বাছাই করতে পারবেন।

আইওয়ার্ক ফর ক্লাউড (iWork for iCloud)

ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের জন্যে যে অফিস অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করা হয় সেটার ওয়েব ভার্সনই হচ্ছে আইওয়ার্ক ফর ক্লাউড। সহজেই ব্যবহার যোগ্য ইন্টারফেস ও অসাধারণ নমনীয়তায় অ্যাপ্লিকেশনটিতে কাজ করতে পারবেন ইচ্ছেমতো।

যদিও কাস্টোমাইজেশনের ব্যবস্থা খুবই কম তারপরেও এর আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং বিল্ট ইন কাস্টোমাইজেশনে আপনি সেই বাধ্যবাধকতার কথা প্রায় ভুলেই যাবেন।

এর কিছু ফিচার হচ্ছেঃ

  • ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের সাথে সম্পূর্ণরূপে সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন।
  • ব্যবহার করার পূর্বে অ্যাপল ও ক্লাউড একাউন্ট থাকা লাগবে।
  • ক্লাউডে সর্বোচ্চ ৫ গিগাবাইট পর্যন্ত ফাইল সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।
  • শুধুমাত্র অফিসিয়াল কাজের জন্যে তৈরী হওয়ায় সকল ধরনের অফিসিয়াল অ্যাপ্লিকেশনের সাথে যুক্ত হতে পারবেন।
  • মাইক্রোসফটের ফাইল এক্সটেনশনগুলো সহজেই যুক্ত করতে পারবেন।

জোহো অফিস (Zoho Office)

এই ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের অসাধারণ ইন্টারফেস আপনি অন্য কোনো অফিস অ্যাপে পাবেন না। মূলত ছোটো টিমের জন্যে জোহো অফিস অনেক বেশি কার্যকরী। টাইপিং করার পাশাপাশি আপনি চ্যাটিং করতে পারবেন, ডিজিটাল স্বাক্ষর দিতে পারবেন, একই ফাইল কয়েকজন মিলে সম্পাদনা করতে পারবেন এবং দ্রতগতিতে ফাইল শেয়ার করতে পারবেন।

থার্ড পার্টি অ্যাপের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে এক ক্লিকেই ডকুমেন্ট শেয়ার করতে পারবেন।

এর কিছু ফিচার হচ্ছে,

  • ৫ গিগাবাইট পর্যন্ত ফাইল সংরক্ষণ করতে পারবেন।
  • কখন অ্যাপ্লিকেশনটি আপডেট হচ্ছে সে সম্পর্কে খবরাখবর রাখতে পারবেন।
  • মাইক্রোসফট অফিসের সকল ফাইল এক্সটেনশন সহজেই যুক্ত করতে পারবেন।
  • ফাইল সম্পাদনা করার সময় একই সাথে চ্যাটিং করতে পারবেন।
  • টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন এর মাধ্যমে ফাইল সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।
  • যেকোনো ডকুমেন্ট, সেটিংস ও ওয়ার্কস্পেস সহজেই কাস্টোমাইজ করতে পারবেন।

অফিসিয়াল কাজের জন্যে ৪ টি অফিস অ্যাপ্লিকেশন

অনলি অফিস (OnlyOffice)

এই অফিস অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কে মানুষ ততটা না জানলেও, এটা কিন্তু ঠিকই তার কাজ করে যাচ্ছে। এই অ্যাপ্লিকেশনের ইন্টারফেস সম্পূর্ণ মাইক্রসফট অফিসের মতোই ডিজাইন করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীর ব্যবহার করতে কোনো সমস্যা না হয়।

তবে যেহেতু এটার নিজস্ব কোনো সার্ভার নেই আর এটি অফলাইন ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন, তাই আপনি এখানে ফাইল সংরক্ষণ করতে পারবেন না। কিন্তু এর ক্লাউড স্টোরেজে ফাইল সংরক্ষণ করতে পারবে।

এর কিছু ফিচার হচ্ছে,

  • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সকল ধরনের ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন।
  • বিগিনার থেকে শুরু করে প্রফেশনাল লেভেলের ব্যবহারকারীদের জন্যেও এটা খুবই বোধগম্য অ্যাপ্লিকেশন।
  • মাইক্রোসফট অফিসের সকল ফাইল এক্সটেনশনগুলো সহজেই যুক্ত করতে পারবেন।
  • আপনার নিজস্ব কোনো সার্ভার থাকলে সেখানে চাইলে এই অ্যাপ্লিকেশন আপলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।
  • একইসাথে অনলাইন কানেকশনের মাধ্যমে ছোটোখাটো টিমের মধ্যে চ্যাটিং ও সম্পাদনা করতে পারবেন।

সফটম্যাকার অফিস (SoftMaker Office)

যদিও এই অফিস অ্যাপ্লিকেশনের মূল ভার্সনটি আপনাকে ১০০ ডলার দিয়ে ক্রয় করতে হবে কিন্তু আপনি চাইলেই এই অ্যাপ্লিকেশনের বিনামূল্যের ভার্সনটি ব্যবহার করতে পারবেন। বিনামূল্যের ভার্সনটির নাম হচ্ছে, সফটমেকার ফ্রিঅফিস (SoftMaker FreeOffice) বিনামূল্যের ভার্সনটিতে আপনি সকল প্রয়োজনীয় ফিচার এবং কাস্টোমাজেশন ব্যবহার করতে পারবেন।

মাইক্রোসফট অফিসের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে এই অফিস অ্যাপ্লিকেশন। আপনি এখানে মাইক্রোসফট অফিসের যেকোনো ফাইল সম্পাদনা করতে পারবেন কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই। বেশ কয়েক ধরনের ইন্টারফেস থেকে আপনি পছন্দ করে যেকোনো ইন্টারফেস ব্যবহার করতে পারবেন।

এর কিছু ফিচার হচ্ছে,

  • একইসাথে একাধিক ট্যাবে একাধিক ডকুমেন্ট সম্পাদনা করতে পারবেন।
  • কখন অ্যাপ্লিকেশনটি আপডেট হচ্ছে সে সম্পর্কে খবরাখবর রাখতে পারবেন।
  • সরাসরি যেকোনো ডকুমেন্ট ফাইলকে ইবুকে পরিণত করতে পারবেন।
  • বেশ কয়েকধরণের ইন্টারফেস থেকে নিজের পছন্দমতো ইন্টারফেস বাছাই করে ব্যবহার করতে পারবেন।
  • সম্পূর্ণরূপে ইন্সটল না করে, পোর্টেবল ইন্সটলেশনের মাধ্যমে যেকোনো ডিভাইসেই ব্যবহার করতে পারবেন।

লিবরা অফিস (LibreOffice)

মাইক্রোসফট অফিসের সবচেয়ে সেরা বিকল্প হতে পারে লিবরা অফিস।  এই অফিস অ্যাপ্লিকেশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন এবং ওপেন সোর্স হওয়ায় আপনি এর কোডিং নিজেই করতে পারবেন। তাছাড়া এটি উইন্ডোজ, ম্যাক এবং লিনাক্সসহ সকল অপারেটিং সিস্টেমেই সাপোর্ট করে।

এর কিছু ফিচার হচ্ছে,

  • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়, ওপেন সোর্স এবং ক্রস প্লাটফর্ম অফিস অ্যাপ্লিকেশন।
  • যেকোনো ডকুমেন্টকে ইবুক, ওয়েবপেইজ কিংবা অন্যান্য ফাইল এক্সটেনশনে পরিবর্তন করতে পারবেন।
  • ডাউনলোড করতে পারবেন হাজার হাজার টেমপ্লেট।
  • হাজার হাজার ফাইল এক্সটেনশন যুক্ত করতে পারবেন যেকোনো ডকুমেন্টে।
  • যেকোনো ডকুমেন্ট ক্যালকুলেটর থেকে শুরু করে ডায়াগ্রাম, ইনফোগ্রাফিক, গ্রাফিক্স, ক্লিপআর্ট ইত্যাদি যুক্ত করতে পারবেন।

ডব্লিউপিএস অফিস (WPS Office)

পূর্বে এর নাম ছিলো কিংসফট অফিস। এই অফিস অ্যাপ্লিকেশনকে সাধারণত পাওয়ারহাউজ বলা হয়। কারণ, এর মধ্যে আপনি শুধুমাত্র ডকুমেন্ট রাইটারই পাবেন না, একই সাথে আপনি পাবেন ইবুক কনভার্সন, ইবুক মার্জিং, ইবুক স্প্লিটিং, ডিজিটাল স্বাক্ষর, ডকুমেন্ট এনক্রিপশন, হাজার হাজার ফন্ট ও টেমপ্লেট সহ আরো অনেক অসাধারণ ফিচার।

এর কিছু ফিচার হচ্ছে,

  • এই অফিস অ্যাপ্লিকেশনের অনলাইন ক্লাউডে ১ জিবি পর্যন্ত ফাইল সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।
  • যেকোনো ডকুমেন্ট কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই শেয়ার করতে পারবেন।
  • একইসাথে একাধিক ট্যাবে একাধিক ডকুমেন্ট সম্পাদনা করতে পারবেন।
  • ডাউনলোড করতে পারবেন হাজার হাজার টেমপ্লেট।
  • হাজার হাজার ফাইল এক্সটেনশন যুক্ত করতে পারবেন যেকোনো ডকুমেন্টে।
  • মাইক্রোসফট অফিসের যেকোনো ফাইল এক্সটেনশন যুক্ত করতে পারবেন।

যদি আপনি অনলাইন অফিস অ্যাপ্লিকেশন অর্থাৎ ওয়েবসাইট ব্যবহার করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে সবসময় ইন্টারনেট কানেকশন রেখে কাজ করতে হবে। আর আপনি যদি অফলাইন ডেস্কটপ অফিস অ্যাপ্লিকেশন বেছে নেন তাহলে ডেটা সংরক্ষণ করার জন্যে যেকোনো অনলাইন ক্লাউড স্টোরেজের সাথে যুক্ত থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top